বিশ্ববাজারে ফরিদপুরের পাট: জিআই স্বীকৃতি ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ ৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পাটের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি অর্জন এবং বিশ্ববাজারে এর রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে ফরিদপুরে দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে দেশের কৃষি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জিআই স্বীকৃতি মিললে স্থানীয় পাটচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পাটের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে।
শুক্রবার সকালে ফরিদপুর শহরের গঙ্গাবর্দীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘ফরিদপুরের পাট: জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) স্বীকৃতি থেকে বৈশ্বিক সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. রাশিদা ফেরদৌস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল হালিম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাসির আখতার।
কর্মশালায় আলোচকেরা বলেন, ফরিদপুরের মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ু পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যার ফলে এখানকার পাটের আঁশ অত্যন্ত উন্নত মানের হয়। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে জিআই সনদ অর্জন অত্যন্ত জরুরি। এই স্বীকৃতি কেবল পাটের ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করবে না, বরং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি চাষিদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
সেমিনারে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক, পাটচাষি এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারা অংশ নেন। দিনব্যাপী সেশনে পাটের আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব পচন পদ্ধতি, উন্নত বীজ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন ও উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়।
১০৬ বার পড়া হয়েছে