ফরিদপুরের মারুফের তৈরি এক আসনের বিমান প্রথমবার আকাশে উড়ল
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ ৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার তরুণ উদ্ভাবক মারুফ মোল্লা নিজের তৈরি এক আসনের একটি ছোট বিমান প্রথমবারের মতো আকাশে উড়াতে সক্ষম হয়েছেন। কয়েক ফুট উচ্চতায় উড়লেও এটিকে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, সীমিত সামর্থ্য ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও মারুফের এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকার বাসিন্দা মারুফ মোল্লা গত বছরের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নিজের তৈরি এক আসনের বিমান আকাশে উড়িয়ে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে তিনি প্রথমবারের মতো বিমানটির সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিমানটি খুব বেশি উচ্চতায় উঠতে না পারলেও কয়েক ফুট ওপরে উঠে উড়তে সক্ষম হয়। এ দৃশ্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন। পরে অনেকেই মারুফের বাড়িতে গিয়ে বিমানটি কাছ থেকে দেখেন।
মারুফ জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর আকাশে ওড়ার স্বপ্ন ছিল। কক্সবাজারে ভ্রমণের সময় প্যারাগ্লাইডারে মানুষকে উড়তে দেখে সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। পরে ইউটিউব দেখে নিজ উদ্যোগে প্রায় ছয় মাস চেষ্টা করে একটি প্যারাগ্লাইডার তৈরি করেন এবং সেটি সফলভাবে উড়ান।
এরপর মানিকগঞ্জের এক উদ্ভাবকের তৈরি ছোট বিমান দেখে নিজেও বিমান তৈরির পরিকল্পনা করেন। প্রায় সাত মাস ধরে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে নিজের নকশায় বিমানটি তৈরি করেন। প্রথমদিকে উড্ডয়ন সফল না হওয়ায় তিনি অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেন এবং ইঞ্জিনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনেন। এরপরই পরীক্ষামূলকভাবে বিমানটি আকাশে তুলতে সক্ষম হন।
মারুফ বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এসএসসি পাসের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবে নতুন কিছু তৈরির আগ্রহ কখনো কমেনি। এর আগে তিনি একটি ইলেকট্রিক্যাল থেরাপি মেশিনও তৈরি করেছেন।
তিনি দাবি করেন, বিদেশ থেকে একটি প্যারাগ্লাইডার আনতে যেখানে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়, সেখানে তিনি প্রায় এক লাখ টাকায় সেটি তৈরি করেছেন। একইভাবে কয়েক কোটি টাকার ছোট বিমানের পরিবর্তে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে নিজের বিমানটি নির্মাণ করেছেন।
ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির বিমান তৈরি করতে সরকারি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ চান মারুফ। তাঁর আশা, একদিন নিজের তৈরি বিমান আরও নিরাপদভাবে এবং অনেক বেশি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মারুফ ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহী। তাঁর এই সাফল্যে এলাকায় উৎসাহ ও গর্বের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
চরবিষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মারুফের উদ্ভাবনী ক্ষমতা রয়েছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
১২৪ বার পড়া হয়েছে