নাজাফে লাখো মানুষের শোকযাত্রা, খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৬:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে বুধবার নেওয়া হলে সেখানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোকের আবহ তৈরি হয়। ছয় দিনব্যাপী শেষ শ্রদ্ধা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই শোকযাত্রায় অংশ নিতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ নাজাফে জড়ো হন। নিরাপত্তা ও জনসমাগম বিবেচনায় ইরাক সরকার সরকারি ছুটিও ঘোষণা করে।
নাজাফ শহরের প্রধান সড়কগুলো আজ (বৃহস্পতিবার) ভোর থেকেই মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে ওঠে। কফিনবাহী ট্রাক ধীরে ধীরে শহর অতিক্রম করার সময় হাজারো মানুষ প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতি, ইরান ও ইরাকের জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে শোকযাত্রায় অংশ নেন। অনেকের কণ্ঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানও শোনা যায়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছালে ইরাক ও ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির পরিবারের সদস্যদের দেখা গেলেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি উপস্থিত ছিলেন না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নাজাফে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ইসলামের প্রথম শিয়া ইমাম হযরত আলী (রা.)–এর পবিত্র মাজারে। শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ শোকসমাবেশে পরিণত হয় এ আয়োজন।
শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাঁরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রয়াত নেতার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উপস্থিতি।
নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় কারবালায়, যেখানে ইমাম হোসেন (রা.) ও হযরত আব্বাসের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কায়ানি এ আয়োজনকে ইরান ও ইরাকের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরাকে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মরদেহ ইরানের মাশহাদে নেওয়া হবে এবং সেখানেই দাফন সম্পন্ন হবে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে