সর্বশেষ

খেলা

আজ রাত ৩টায় ইংল্যান্ডের সামনে নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলান্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপে অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে আলোচনায় থাকা নরওয়ে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফুটবল খেলছে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটির সামনে এবার ইংল্যান্ড। আর্লিং হলান্ডকে ঘিরে গড়ে ওঠা নরওয়ের আক্রমণভাগ ও তাদের বিল্ড-আপ কৌশল থামানোই হতে পারে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
আর্লিং হলান্ড

বিশ্বকাপে নরওয়ের পারফরম্যান্স অনেকেরই নজর কেড়েছে। গ্রুপ ‘বি’ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠার পর তারা ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। পাঁচ ম্যাচে ১২ গোল করা দলটি এখন সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছে।

স্টালে সোলবাক্কেনের অধীনে নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বহুমাত্রিক আক্রমণভাগ। প্রয়োজন হলে তারা ধৈর্য ধরে ছোট ছোট পাসে খেলা গড়ে তোলে, আবার সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে।

নরওয়ের আক্রমণের সূচনা হয় রক্ষণভাগ থেকেই। গোলরক্ষক অরইয়ান নাইল্যান্ড ছোট পাসের মাধ্যমে ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডারদের যুক্ত করে ধীরে ধীরে আক্রমণ সাজান। এতে নিজেদের অর্ধে সংখ্যাগত সুবিধা তৈরি করে সহজেই প্রতিপক্ষের প্রথম প্রেসিং ভেঙে সামনে এগিয়ে যায় দলটি।

তবে প্রতিপক্ষ যদি ছোট পাসের পথ বন্ধ করে দেয়, তখন নরওয়ের বিকল্প পরিকল্পনা হলো লম্বা তির্যক পাস। এ ক্ষেত্রে ডান প্রান্তে থাকা ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার আলেকজান্ডার সোরলোথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নাইল্যান্ডের দীর্ঘ পাস গ্রহণ করে তিনি আক্রমণের গতি বাড়ান। এই কৌশল ইতিমধ্যেই নরওয়ের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ইংল্যান্ডের জন্য তাই সোরলোথকে সামলানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সম্ভাব্য বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার নিকো ও’রাইলি শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে নরওয়ের বিল্ড-আপ থামানোর একটি উপায় হতে পারে পুরো মাঠজুড়ে ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং। এতে নরওয়ের সংখ্যাগত সুবিধা কমিয়ে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি নাইল্যান্ডকে বাধ্য করা যেতে পারে সোরলোথের দিকে লম্বা বল খেলতে।

তবে এই কৌশলেরও ঝুঁকি রয়েছে। কারণ এতে মাঝমাঠ ও আক্রমণের মাঝে আর্লিং হলান্ডকে তুলনামূলক বেশি জায়গা দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকারকে একা সামলানো কঠিন। তাই অনেক কোচই সম্ভবত রক্ষণভাগে অতিরিক্ত একজন ডিফেন্ডার রেখে হলান্ডকে ঘিরে ডাবল মার্কিংয়ের পরিকল্পনা করবেন।

এদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাকে নরওয়ের জন্য বিশেষ অর্জন বলেই মনে করছেন আর্লিং হলান্ড। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলতে পারাটা তার কাছেও কিছুটা বিস্ময়কর।

হলান্ডের মতে, ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। দেশের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসও তাকে অনুপ্রাণিত করছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হলান্ডের জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। কারণ তার জন্ম ইংল্যান্ডের লিডস শহরে, যখন তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হলান্ড সেখানে ক্লাব ফুটবল খেলতেন। বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলায় ইংল্যান্ড দলের অনেক ফুটবলারের সঙ্গেই তার পরিচিতি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।

হলান্ড বলেছেন, ম্যাচটি তার কাছে বিশেষ হলেও তিনি এটিকে উপভোগ করতে চান। তার মতে, বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বারবার আসে না, তাই প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নরওয়ের জন্য আরও স্বস্তির খবর, সপ্তাহের শুরুতে অসুস্থতার যে খবর ছড়িয়েছিল, তা গুরুতর নয়। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে হলান্ডসহ দলের সব ফুটবলার সুস্থ রয়েছেন। ফলে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে সোলবাক্কেনের দল।

সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে ইংল্যান্ডকে যেমন হলান্ডের গোল করার ক্ষমতা থামাতে হবে, তেমনি নরওয়ের সংগঠিত বিল্ড-আপ ও দ্রুত আক্রমণ ভাঙার কার্যকর পরিকল্পনাও খুঁজে বের করতে হবে। আর নরওয়ের লক্ষ্য থাকবে বিশ্বকাপে নিজেদের স্বপ্নযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন