ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ ও হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র ২৫ দিনের মাথায় ঘোষিত এই ঐতিহাসিক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিছামনির পরিবার। দ্রুত এই রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আরিফ, রাকিব ও সাইম। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার অপর অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার তিন প্রাপ্তবয়স্ক আসামির ফাঁসির আদেশ দেন। অন্যদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফের কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বজলুল করিম চৌধুরী।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মাত্র ৯ দিনের মাথায় ২৩ জুন আদালতে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে মাত্র ২৫ দিনের মাথায় এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণা করা হলো।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিছামনির বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত এই ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
১১৮ বার পড়া হয়েছে