কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা উধাওয়ের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক কৃষকের বিচ্ছিন্ন পা খুঁজে না পাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশ ছাড়াই মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে স্বজনদের। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
নিহত হাসেম আলী (৬০) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার আব্দালপুরের শাহপুর নতুন মসজিদ মোড়ে একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হন তিনি। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় ভ্যানযাত্রী হাসেম আলীর ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা হাসেম আলীকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে অর্থোপেডিক বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতেই তার মৃত্যু ঘটে।
তবে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় বাধে বিপত্তি। হাসেম আলীর ভাই রাশিদুর রহমান অভিযোগ করে জানান, মরদেহ গ্রহণের সময় তার ভাইয়ের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ডান পায়ের অংশটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় হাসপাতালেই খোঁজাখুঁজি করেও পা-টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত পায়ের অংশ ছাড়াই মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন তারা।
স্থানীয় আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের স্টাফ বা আয়াদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এমনটি ঘটেছে। তারা হয়তো অবহেলা করে পায়ের অংশটি ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন। তিনি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, আহত রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন বিচ্ছিন্ন পা সাথেই ছিল। তবে স্টাফরা সেটি স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে কী ঘটেছে তা তদন্তসাপেক্ষ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে