মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণায় আশাবাদী উপকূলবাসী
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ৯:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে, পাশাপাশি পর্যটন, মৎস্য খাত ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণার বিষয়টি সরকারের কাছে উত্থাপন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কলাপাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন এবং কুয়াকাটা পৌরসভা নিয়ে নতুন প্রশাসনিক উপজেলা গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মহিপুর ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বন্দর, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার একটি বড় অংশ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এই অঞ্চলে অবস্থিত।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনিক উপজেলা গঠিত হলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর স্থাপনের জন্য মহিপুর এলাকায় পর্যাপ্ত খাসজমি রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে পর্যটন, মৎস্যশিল্প ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশেও নতুন গতি আসবে।
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেন, মহিপুর উপজেলা হলে এলাকার মানুষের প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ সহজ হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও ত্বরান্বিত হবে।
ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আবদুর রহিম বলেন, বর্তমানে তাঁদের ইউনিয়ন থেকে কলাপাড়া উপজেলা সদর প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হলেও মহিপুর মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। উপজেলা হলে সাধারণ মানুষের সময় ও যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহিপুর ও আলীপুর অঞ্চলের মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী উপজেলা স্থাপনের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবে। এতে সরকারি বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য হবে।
মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. পজলু গাজী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মহিপুর চারপাশের ইউনিয়নের জন্য একটি কেন্দ্রীয় স্থান। তাই এখানে উপজেলা প্রতিষ্ঠা করা হলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী প্রশাসনিক সুবিধা পাবে।
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, মহিপুরকে উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তাঁর মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং এর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন ঘটবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে