মোংলায় টানা ৩ দিন সূর্যের দেখা নেই: চরম দুর্ভোগে মানুষ, বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর লঘুচাপের প্রভাবে মোংলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে, যার ফলে গত তিন দিন ধরে দেখা মেলেনি সূর্যের। বিরামহীন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় উপকূলীয় জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য খালাস কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে এক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা থাকার পাশাপাশি অবিরাম বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও মৎস্যজীবীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ৭২ ঘণ্টার এই দুর্যোগে মোংলা পৌর শহরসহ সুন্দরবন সংলগ্ন চিলা, বুড়িরডাঙ্গা, চাঁদপাই ও মিঠাখালী ইউনিয়নের রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। মৎস্যজীবীরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে না পারায় পরিবার নিয়ে চরম খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছেন।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মোংলা সমুদ্র বন্দরে। বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ জানিয়েছে, বন্দরে কয়লা, সার ও ক্লিংকারবাহী বেশ কয়েকটি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার কারণে খোলা পণ্যবাহী জাহাজের খালাস কাজ বারবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে বন্দরে জাহাজের অবস্থানকাল দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টানা বর্ষণে পশুর নদীসহ উপকূলীয় নদীগুলোর পানির উচ্চতা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ থেকে বনের অভ্যন্তরে থাকা সকল ক্যাম্প ও ফাঁড়িকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বনের ভেতরের নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
মোংলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই ঘের মালিকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে