সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত ৩৫৩৫, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ত্রাণসংকটে দুর্ভোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ৪:৪৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং গৃহহীন হয়েছেন অন্তত ১৭ হাজার ৮৫৪ জন। স্বাস্থ্য সংকট, সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং ত্রাণ কার্যক্রমের ধীরগতিকে ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন

সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। এসব এলাকায় স্থাপিত ৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে অন্তত ১২ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ভূমিকম্পের পর স্বাস্থ্য পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, নিরাপদ পানির সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খোলা জায়গায় বসবাসের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

কারাকাসের জোসে গ্রেগোরিও হার্নান্দেজ হাসপাতালের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউজেনিও কোভা বলেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লা গুয়াইরার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত বহনযোগ্য টয়লেটেরও অভাব রয়েছে।

গত সপ্তাহে লা গুয়াইরার একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া প্রতিবেদনে সংবাদদাতা তেরেসা বো জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অতিরিক্ত পোর্টেবল টয়লেট, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন, যাতে অতিরিক্ত ভিড় কমানো সম্ভব হয়।

এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরকারের ধীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা। মানবাধিকারভিত্তিক সংস্থা ‘ওয়াশিংটন অফিস অন ল্যাটিন আমেরিকা’ (ডব্লিউওএলএ)-এর প্রেসিডেন্ট ক্যারোলিনা হিমিনেজ বলেন, দুর্যোগের শুরুতে রাষ্ট্রের দ্রুত ভূমিকা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সহায়তা পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কারাকাসের উত্তরের কাতিয়া লা মারসহ কয়েকটি এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ বিতরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় লা গুয়াইরায় গণকবর খুঁড়ে অনেক মরদেহ দাফনের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা ও দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রমের দাবি জোরালো হচ্ছে।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন