সর্বশেষ

সারাদেশ

কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় তিনজনের ১০ বছর কারাদণ্ড

আহসান সুমন, কক্সবাজার
আহসান সুমন, কক্সবাজার

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ৫:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কক্সবাজারে বেড়াতে আসা এক অস্ট্রেলীয় নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি, একটি কটেজের মালিককে খালাস দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তিন আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম জানান, মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি, কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপ এলাকার আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল গফুর (২৬) ও বেলাল উদ্দিন (৩৬)। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর মোশাররফ হোসেন টিটু। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মহিউদ্দিন মঈন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে আসেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যালিসা ব্রুক এলিয়ট। ১৪ ডিসেম্বর তিনি কক্সবাজারের পেঁচারদ্বীপ-সংলগ্ন একটি কটেজে ওঠেন। দুই দিন পর গভীর রাতে তিন আসামি কটেজে প্রবেশ করে তাঁর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

ভুক্তভোগী প্রতিরোধ গড়ে তুলে কটেজ থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কটেজের এক নিরাপত্তাকর্মী অপর দুই আসামিকে সেখানে ডেকে আনেন। তারা প্রথমে চুরির উদ্দেশ্যে কটেজে প্রবেশ করলেও পরে একা থাকা বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

ঘটনার পর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) স্বরূপ কান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করেন। তদন্তে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। রায়ের সময় ভুক্তভোগী আদালতে উপস্থিত না থাকলেও বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন