সর্বশেষ

সারাদেশ

শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার ১০ বছর: আতঙ্কের স্মৃতি, বিচারে ধীরগতি

শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ
শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে জঙ্গি হামলার ১০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদের নামাজ শুরুর আগে নিরাপত্তাচৌকিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য, এক গৃহবধূ ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। এক দশক পরও সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতি ভুলতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে আইনি জটিলতায় মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে ধীরগতিতে।
শোলাকিয়া ঈদগাহে জঙ্গি হামলার ১০ বছর পূর্ণ আজ (সংগৃহীত ছবি)

২০১৬ সালের ঈদুল ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে দেশের অন্যতম বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। নামাজ শুরুর কিছুক্ষণ আগে ঈদগাহের কাছাকাছি মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদ এলাকায় পুলিশের একটি নিরাপত্তাচৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় জঙ্গিরা।

হামলার পরপরই পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিবিনিময় শুরু হয়। গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জঙ্গিদের হামলায় পুলিশের দুই সদস্য নিহত হন। এ সময় নিজ বাড়িতে থাকা গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আবির রহমান নামের এক জঙ্গি নিহত হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের দিনের এমন পরিস্থিতি তারা আগে কখনো দেখেননি। চারদিকে গুলির শব্দ ও আতঙ্কে অনেকেই মাটিতে শুয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই দিনের ভয়াবহতা এখনো তাদের মনে দাগ কেটে আছে।

মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের ইমাম জানান, সেদিন মসজিদের ওপর থেকে দেখা দৃশ্য এখনো মনে পড়লে ভয় ও কষ্ট অনুভব করেন তিনি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হামলার ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করে পুলিশ। পরে ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শাহ্ কামাল সরকার জানান, মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ১৯ জন বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। পাঁচজনের মধ্যে দুজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন এবং তিনজন কারাগারে আছেন।

তিনি জানান, মামলার ১০২ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের সাক্ষ্য গ্রহণের পর বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও অগ্রগতি হবে। সাক্ষীর অনুপস্থিতি ও বিচারক সংকটসহ কিছু আইনি জটিলতার কারণে মামলার কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।

সরকার পক্ষের আইনজীবী আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হলে এ মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন