তালতলীতে ব্যক্তিগত স্বার্থে সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের চেষ্টা, জমি জালিয়াতির অভিযোগ
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনার তালতলীতে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি ও সুবিধা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে এই অনিয়ম ও স্কুলের জমি জালিয়াতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য। কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়িয়া গ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়িয়া শের-ই-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একটি বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আশ্রাফ সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জনসাধারণের ব্যবহারের সুবিধা বিবেচনা না করে কেবল নিজের বাড়ির পাশে ও ব্যক্তিগত সুবিধাজনক স্থানে দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র বা সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।
তালতলী প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার এই প্রকল্পের অনিয়ম তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে সাইক্লোন সেল্টারটি গ্রামের লিংকরোড সংলগ্ন সরকারি সুবিধাজনক স্থানে নির্মাণ করা উচিত ছিল। তাছাড়া পূর্বে বিদ্যালয়ে সরকারি ব্যয়ে নির্মিত ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার একটি ওয়াশ ব্লকও সীমানার বাইরে প্রভাব খাটিয়ে খাস জমির ওপর স্থাপন করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের অর্পণকৃত জমির মালিকানা নিয়েও জালিয়াতির চিত্র তুলে ধরা হয়। জানা যায়, বিদ্যালয়ের আসল দলিলে ৭০ শতাংশ জমির উল্লেখ থাকলেও নামজারিতে মাত্র ৪০ শতাংশ দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩টি দাগের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। এই পরিস্থিতিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিকে অন্ধকারে রেখে প্রভাবশালীর পুত্রবধূ সুমি আক্তারকে সভাপতি মনোনীত করে পুরো বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার জানান, এলজিইডি ইতিমধ্যে স্থান নির্ধারণ ও মাটি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। তবে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এলাকাবাসীর দাবিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে এবং বিদ্যালয়ের প্রকৃত জমি উদ্ধারে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে