খুলনায় ১০ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রকে শিকল বেঁধে নির্যাতন, শিক্ষক গ্রেপ্তার
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ২:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনা মহানগরীতে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল বেঁধে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। এমন অমানবিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু মিরাজুল ইসলামের বাবা একজন দিনমজুর। ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি স্থানীয় ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। তবে ভর্তির পর থেকেই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বা মুহতামিম মাওলানা আসলাম উদ্দিন শিশুটির ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।
অভিযোগে জানা যায়, পড়াশোনার বাইরেও ওই শিক্ষক শিশু মিরাজুলকে দিয়ে বাড়ির নানা ব্যক্তিগত কাজ করাতেন। এর মধ্যে গৃহপালিত পশুপাখি ও গরু-ছাগল চরানোর মতো কাজও ছিল। এসব কঠিন শ্রমে শিশুটি অনীহা প্রকাশ করলে তার ওপর নেমে আসত পৈশাচিক নির্যাতন। সামান্য অজুহাতে প্রতিনিয়ত তাকে মারধর করা হতো।
সর্বশেষ ঘটনার দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষক শিশুটির পায়ে লোহার শিকল বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালান। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে এলে তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে এবিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল ওই মাদ্রাসায় অভিযান পরিচালনা করে।
এসময় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে এবং শিশুটিকে শিকলবন্দী দশা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। আড়ংঘাটা থানা পুলিশ এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে।
১৩২ বার পড়া হয়েছে