উপকূলে টানা বৃষ্টি, পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল
সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ ৯:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মৌসুমি নিম্নচাপ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উড়িষ্যা ও দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থান করায় এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকায় টানা তিন দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে শতাধিক মাছধরা ট্রলার।
মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত তিন দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উপকূলজুড়ে আকাশ এখনো ঘন মেঘে ঢাকা। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে নদ-নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বেড়েছে এবং কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। বড় বড় ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ছে।
বিশেষ আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছধরা নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে উপকূলের মৎস্যখাতেও। মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমবায় সমিতির সদস্য এবং আল্লাহ ভরসা মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী মো. তানভীর আহম্মেদ লুনা আকন জানান, সাগরে মাছের উপস্থিতি কম থাকায় জেলেরা আগেই সংকটে ছিলেন। তার ওপর টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা সমুদ্রে যেতে পারছেন না। ফলে অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার বর্তমানে মহিপুর শিব্বারিয়া পোতাশ্রয়ে নিরাপদে নোঙর করে রয়েছে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি সমুদ্রে যাতায়াত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
১২৪ বার পড়া হয়েছে