গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্ত, বাঁচবে শত কোটি টাকা
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ৬:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের পাট চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখা দিয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত মানের এই বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং ভারতের বীজ কেনা বাবদ দেশের অন্তত ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুচিডাঙ্গা গ্রামে এবার পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে ‘বিনা তোষাপাট-১’ পাটের আবাদ করা হয়েছে। স্থানীয় বিনা উপকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে বীজ সংগ্রহ করে চাষাবাদ করা সুচিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সমীর মজুমদার জানান, বিগত বছরগুলোতে বাজার থেকে কেনা ভেজাল বীজে লোকসান গুণলেও এবার বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তার জমির পাটের আঁশ যেমন মোটা হয়েছে, তেমনই গাছগুলো বেশ দীর্ঘ হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রচলিত জাতগুলোর তুলনায় নতুন উদ্ভাবিত এই জাতটি চাষে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ অত্যন্ত কম। হেক্টর প্রতি এর আঁশের ফলন প্রায় ৩.২ থেকে ৪ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে। মাত্র ১০০ থেকে ১০৭ দিনের স্বল্প জীবনকালের কারণে এই পাট কাটার পর কৃষকেরা একই জমিতে বছরে চারটি ফসল অনায়াসে চাষ করতে পারছেন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর তোষাপাট বীজের বড় একটি অংশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। সঠিক সময়ে গুণগত বীজ না পাওয়া এবং উচ্চ মূল্যের কারণে সাধারণ চাষিরা প্রায়শই বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। অথচ ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের পাট থেকে হেক্টর প্রতি প্রায় ১ হাজার কেজি বীজ উৎপাদন সম্ভব, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বীজের চাহিদা মিটিয়ে শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারে।
সম্প্রতি সুচিডাঙ্গা গ্রামে নতুন এই জাতের চাষাবাদ সম্প্রসারণে মাঠ দিবসের আয়োজন করে বিনা উপকেন্দ্র গোপালগঞ্জ। অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, এ বছর জেলায় ২৫ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এই উচ্চফলনশীল জাতের বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে সোনালী আঁশের হারানো গৌরব আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
মাঠ দিবসে উপস্থিত বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন এবং উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুন-নবী মজুমদারসহ অন্যান্য কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের এই পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক পাট চাষে সব ধরণের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
১২০ বার পড়া হয়েছে