সাতক্ষীরার দেবহাটায় মৎস্যঘেরে ডাকাতি, বাধা দেওয়ায় চাষিকে কুপিয়ে জখম
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ৬:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার দেবহাটায় মৎস্যঘেরে ডাকাতি ও বাধা দেওয়ায় এক চাষিকে কুপিয়ে জখম করার খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ঘুরনচন্ডি এলাকার একটি মৎস্যঘেরে গভীর রাতে হানা দিয়ে লুটপাট চালিয়েছে সশস্ত্র ডাকাত দল। এসময় ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় এবং এক ডাকাতকে চিনে ফেলায় ইয়াদিন আলী মোল্যা নামের এক চাষিকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে। আহত ইয়াদিন দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের মৃত সামসুদ্দিন মোল্যার ছেলে।
ভুক্তভোগী ইয়াদিন মোল্যা জানান, প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও তিনি নিজের মৎস্যঘেরে পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত ঘেরে নেমে জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি এগিয়ে গেলে ডাকাতরা তার ওপর চড়াও হয়। এসময় তিনি পারুলিয়া পলগাদা এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ নামের এক ডাকাতকে চিনে ফেলেন। পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে।
আহতের চিৎকারে আশেপাশের মৎস্যঘেরের পাহারাদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসলে ডাকাত দল মাছ ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় ইয়াদিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার পরিবার দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় মৎস্য চাষি খাইরুল ইসলাম, ওহিদুল ইসলাম ও মাসুদ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় প্রায়ই গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাত দল মৎস্যঘেরে ঢুকে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় জীবন রক্ষার্থে চাষিরা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন না। এভাবে প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। এ অঞ্চলে মৎস্যঘেরে ডাকাতি রোধে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ চাষিরা।
এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, মৎস্যঘেরে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে