নরসিংদীতে মন্দিরের সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুয়া কমিটি গঠন, স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং ওএমএস ডিলারশিপ দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুড় এলাকায় অবস্থিত শীতলাবাড়ি মন্দিরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (টিআর) প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগ উঠেছে। নরসিংদী জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব দীপক কুমার বর্মণ প্রিন্সের বিরুদ্ধে এই জালিয়াতির আঙুল উঠেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই মন্দিরের জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, দীপক কুমার বর্মণ নিজের আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারীদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি ভুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেন। সেখানে নিজেই সভাপতি বনে যান। পরবর্তীতে মে মাসে বরাদ্দের পুরো টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হলেও মন্দিরের কোনো উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। এমনকি শীতলাবাড়ি মন্দির কমিটির মূল সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক অখিল দাস এই বরাদ্দের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, ভুয়া কমিটির সদস্য করা হয়েছে দাবি করে তুষার দাস নামের এক স্থানীয় যুবক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে না জানিয়ে সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি এই জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
শুধু মন্দিরের টাকাই নয়, ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। বৌয়াকুড় এলাকার বাসিন্দা বলাই জানান, ডিলারশিপের আশায় স্ত্রীর হাতের সোনার বালা বন্ধক রেখে তিনি এই টাকা প্রিন্সকে দিয়েছিলেন। এছাড়া স্থানীয় ভাগবত আশ্রমের কমিটি গঠন করে দেওয়ার নামেও মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দীপক কুমার বর্মণ প্রিন্স দাবি করেন, বরাদ্দকৃত টাকার বিষয়ে মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস ভালো বলতে পারবেন। তবে সজয় দাস জানান, মন্দিরের নামে বরাদ্দ আসার কথা শুনলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো সরকারি অর্থ পাননি। এ নিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে