কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন অক্টোবর মাসে কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ সরগরম। সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসে কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান শক্তিশালী করতে মাঠে নেমে পড়েছেন।
বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সম্ভাব্য প্রার্থীরা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে উন্নয়ন, নাগরিক সেবা উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও যানজট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছেন।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবে।
শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন জানান, দল মনোনয়ন দিলে তিনি পৌরবাসীর সেবা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার বলেন, মনোনয়ন পেলে তিনি ভূমিহীন মানুষের স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবেন, যাতে কেউ বাস্তুচ্যুত না হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বশিরুল আলম চাঁদ বলেন, গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন। তিনি নির্বাচিত হলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শহর বিএনপির সভাপতি এ কে বিশ্বাস বাবু বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করা হবে এবং দলকে জয় উপহার দেওয়া হবে।
যুবদল নেতা ও চেম্বার পরিচালক ফুয়াদ রেজা ফাহিম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী ডিজিটাল ও উন্নয়নমুখী কুষ্টিয়া গড়তে কাজ করবেন।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার জানান, তিনি মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী এবং সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। নির্বাচিত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকারও করেন তিনি।
এখনো বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নিয়মিত মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা—যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে শহরের যানজট, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে কুষ্টিয়া পৌরসভায় রাজনৈতিক পরিবেশ এখন বেশ প্রাণবন্ত। মনোনয়ন ও চূড়ান্ত সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে স্থানীয় ভোটাররা।
১১৬ বার পড়া হয়েছে