শিলাইদহ কাচারিবাড়ির বেহাল দশা: রবীন্দ্রপ্রেমীদের ক্ষোভ
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কাচারিবাড়ি আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনায় গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও রবীন্দ্র অনুরাগীরা।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কশবা গ্রামে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কাচারিবাড়ি বর্তমানে চরম অবহেলার শিকার। পদ্মা নদীর দক্ষিণ তীরঘেঁষা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি একসময় ছিল সাহিত্য ও ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাচারিবাড়ির বারান্দা ও আঙিনায় গরু-ছাগল ও মহিষ বাঁধা রয়েছে। কোথাও গোবর ও খড়ের স্তূপ, আবার কোথাও হাঁস-মুরগির অবাধ চলাফেরা। দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে পুরো এলাকা নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
দর্শনার্থীরা জানান, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনার এই বেহাল অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। ফরিদপুর থেকে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগে সংস্কারের পর কিছুটা উন্নতি হলেও বর্তমানে নিয়মিত তদারকি ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রায় অনুপস্থিত, ফলে কাচারিবাড়ির আশপাশ গবাদি পশুর বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গবেষকরা বলছেন, শিলাইদহ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ স্থাপনাটিকে অবহেলায় ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৮৯ সালে জমিদারি পরিচালনার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে আসেন এবং পরবর্তীতে ১৯০১ সাল পর্যন্ত এখান থেকেই জমিদারি পরিচালনা করেন। ছয় কক্ষবিশিষ্ট এই দ্বিতল কাচারিবাড়িটি তাঁর স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন।
২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটির সংস্কার করা হলেও এখনো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জনবল সংকট রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জমি হস্তান্তর ও নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় স্থাপনাটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
কাস্টোডিয়ান জানান, জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়মিত পরিচর্যা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১১৬ বার পড়া হয়েছে