গত সরকারের অব্যবস্থাপনা ছিল, এখন হাম টিকা কর্মসূচি সম্পন্ন: অর্থমন্ত্রী
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগের সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বারবার তাগিদ সত্ত্বেও তখন টিকা দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার সেই কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ডেঙ্গু কর্নারের উদ্বোধন উপলক্ষে হাসপাতালের পরিচালকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি অংশ নেন।
সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক এবং চিকিৎসক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার বিষয়টি তুলে ধরলেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার সেই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করবে বলেও জানান।
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বন্দর, বিমানবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ফ্রি জোন এবং রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল ও অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর ওপারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নকাজ শেষ হলে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর গড়ে উঠবে এবং দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।
মাতারবাড়িকে ঘিরেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েই চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশ এখন বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেট বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ফান্ড ম্যানেজারদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, এরপর সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে