চাঁদাবাজির মামলায় ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কর্মকর্তা রিপনের ৪ দিনের রিমান্ড
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কর্মকর্তা রিপনকে গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কর্মকর্তা রিপনকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুজনের করা মামলায় রোববার রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে ছয় দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে অবস্থিত ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রধান কার্যালয় থেকে রিপনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে খিলগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রিপন এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রামপুরায় ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলি করার ঘটনার সঙ্গে রিপন বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তির যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
এদিকে কাইল্যা পলাশকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় মারুফ সুলতান ওরফে ফেরদৌস (৩৭) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। রোববার রাতে হাতিরঝিলের উত্তর নয়াটোলা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, হাতিরঝিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাইল্যা পলাশের সঙ্গে মারুফ সুলতান ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রাথমিক তদন্তে সেই বিরোধের জেরেই হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পশ্চিম রামপুরার বিটিভি ভবনের বিপরীতে একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরদিন পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে