সাইপ্রাসে অপহৃত নরসিংদীর শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খুন, গ্রেপ্তার আরেক বাংলাদেশি
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে পড়তে গিয়ে অপহরণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নরসিংদীর রায়পুরার তরুণ শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২)। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়ে না পেয়ে তাকে হত্যার পর লাশ জঙ্গলে লুকিয়ে রেখেছিল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাহীন বাবু নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ।
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার বড় ছেলে। মাত্র তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে গ্রামের প্রতিবেশী রায়হানের সঙ্গে বসবাস করতেন শাহরিয়ার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচের জোগান দিতে কাজের সন্ধান করছিলেন শাহরিয়ার। গত ১১ জুন বিকেলে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি জানান যে একটি কাজের ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাত থেকেই ডিউটি শুরু হবে। এরপর রাত ৯টার দিকে কর্মস্থলে পৌঁছে রুমমেট রায়হানের হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লোকেশন শেয়ার করেন শাহরিয়ার।
লোকেশন পাঠানোর কিছুক্ষণ পর থেকেই শাহরিয়ারের মোবাইল ফোনটি অপহরণকারীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ওই রাতেই শাহরিয়ারের বাবার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা (৩৫ হাজার ইউরো) মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শাহরিয়ারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন সকালে কাজে না ফেরায় রায়হান স্থানীয় থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন।
অপহরণ চক্রটি অনবরত পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশি টাকায় ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় শাহরিয়ারের পরিবার। তবে ২১ জুন ব্যাংকে টাকা পাঠানোর আগে শাহরিয়ারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে অপহরণকারীরা অস্বীকৃতি জানায়। এতে সন্দেহ হওয়ায় পরিবার টাকা পাঠানো স্থগিত করে।
পরবর্তীতে ওই দিন রাতেই সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা শাহরিয়ারের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুনের বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে এখনো সাইপ্রাসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অফিশিয়ালি কোনো তথ্য পাঠানো হয়নি। নিহতের পরিবার যোগাযোগ করলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
১০৭ বার পড়া হয়েছে