সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার, মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে পদক্ষেপের পর আলোচনা তুঙ্গে
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ৩:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক উদ্যোগকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন থেকে প্রত্যাহার করে উপসচিব (সংযুক্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সাদাপাথর লুটপাট–সংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার পর মো. সারওয়ার আলম সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি আলোচনায় এলেও সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহর আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুরোনো দানবাক্স ও তিনটি বড় ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এই পদক্ষেপের পর মাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি অংশ এবং ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সিলেটে কয়েক দিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল।
এর ধারাবাহিকতায় ১৯ জুন হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে জুমার নামাজের আগে বক্তব্য দেন মো. সারওয়ার আলম। তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখার আহ্বান জানান এবং মাদক ও গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন। পাশাপাশি মাজারকেন্দ্রিক একটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলমান অবস্থায় তাঁর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে।
সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর বেশ কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতির অভাব নিয়ে সমালোচনা ছিল। সাদাপাথর লুটের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এ ছাড়া সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশে জমি অধিগ্রহণের কাজও প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় নয় মাস পরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
ভূমিকম্পের পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ, ফুটপাত থেকে হকার সরানোসহ আরও কয়েকটি ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
১২৩ বার পড়া হয়েছে