এখন বর্ষা এলে
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ৮:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বর্ষা এলেই জেগে ওঠে সেই সব ছেলেবেলা,
থইথই জলে দাপাদাপি করা আমাদের দু’পা।
সবুজ ঘাসের উথাল-পাথাল নাচানাচি যেন,
গোপন আদর লেখা হচ্ছে ওই জলের গা ছুঁয়ে!
কদম ডালের পাতায় পাতায় জল-কোলাহল,
ফুলের শরীরে মাখনের দানা বেশ উচ্ছল!
হিজল বিলের শাপলার বুকে ফণা তোলা সাপ,
কিশোরের সেই হতবাক ডাক—‘ও বাপ রে বাপ!’
ভুলি নাই কিছু। আকাশের চোখে মাখোমাখো সুখ,
মেঘের নামে যে উড়ে যেত মন উচাটন হয়ে,
খুলে দিত সব বন্ধ দুয়ার মোহময় করে।
বাদল এলেই পাড়ার ছেলেরা নেমে যেত মাঠে,
ফুটবল হাতে ছুটে যেত খোকা নগ্ন শরীরে।
হাঁসের পালের দাপুটে চলায় বেড়ে যেত ঢং,
বৃষ্টির জলে ছড়িয়ে পড়ত আলতার রঙ!
বাবার লাগানো কামিনী গাছের সুবাসে যখন
মন টলমল,
শখের সাথিরা দল বেঁধে ছুটে চলে গেছি
ওই লটকন বনে।
বাঁদর স্বভাবে লাফিয়ে পেড়েছি গাছে গাছে ফল,
গায়ের পোশাক বিছিয়ে আবার লুকিয়ে রেখেছি
সেই বুনো ফল।
কানে ঝিম মেরে দেওয়া বর্ষা,
টিনের চালের একটানা সেই ঝমঝমঝম।
মনে হলে আজ আকুপাকু করি, ফিকে হয় দম।
পুরোনো দিনের মায়াবী বর্ষা
আজও কাঁদায় আমাকে, তোমাকে।
আবার কখনো কি ফিরবে সেই সুখময় দিন?
বর্ষা এলেই এখন আমার
ভেতরটা করে চিনচিন চিন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে