সর্বশেষ

সারাদেশ

কলাপাড়ার তেগাছিয়া খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ ৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সোনাতলা নদীর তেগাছিয়া খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ঈদসহ বিশেষ সময়ে এবং প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোলবুনিয়া গ্রামের গাজীবাড়ির একটি প্রভাবশালী চক্র খেয়াঘাটটি নিয়ন্ত্রণ করছে। ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি গত বছর এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

খেয়া চালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পথে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪০০ যাত্রী পারাপার হন। জনপ্রতি অতিরিক্ত ৫ টাকা করে আদায় করায় প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা, মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে অন্তত ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চালু হওয়া এই অনিয়ম রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বন্ধ হয়নি। অপমান ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেক যাত্রী প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও সাহস পান না।

সম্প্রতি ভাড়া নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার সময় খেয়ার মাঝি ও ভাড়া আদায়কারী রাকিবুল গাজী বলেন, “আগেও ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে, আমরাও ১০ টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে কোনো কথা নেই।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, খেয়াঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় লুডু খেলায় ব্যস্ত থাকেন। খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। রাত ৮টার পর ভাড়ারও কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।

যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, “সোনাতলা নদীর ফুলবুনিয়া, রাজ্জাক সিকদার বাড়ি, বাইনতলা ও আরামগঞ্জসহ অন্যান্য খেয়াঘাটে জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। অথচ একই নদীর তেগাছিয়া খেয়াঘাটে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। উপজেলার অন্য সব খেয়াঘাটে ভাড়া ৫ টাকা হলেও তেগাছিয়ায় ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কলাপাড়া উপজেলার ২০টি খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তেগাছিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়েছেন মো. হারেচ গাজীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, “বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে অফিসে ডাকা হয়েছে। শুধু তেগাছিয়া নয়, উপজেলার প্রতিটি খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের নির্ধারিত রেটচার্ট টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

৩৪২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন