রংপুরে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক, চিকিৎসাধীন শিশুর মৃত্যু
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর অঞ্চলে হামের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বুধবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত শিশুর নাম বাবু (৬ মাস)। তার বাড়ি পঞ্চগড় জেলা শহরে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাবরিনা।
হাসপাতালের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে নতুন করে ২৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৯ জন শিশু। এ পর্যন্ত চার শতাধিক হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধা জেলা থেকে এসেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা আসমা বেগম জানান, তার সাত মাস বয়সী ছেলে মারুফ ঈদের দুই দিন আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও শরীরে এখনও হামের র্যাশ রয়েছে।
পঞ্চগড়ের রাশেদুল ইসলাম জানান, তার আট মাস বয়সী কন্যা নাফিসা গত ছয় দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে অনেক শিশু এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতালের দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুদের এবং অন্যটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। পাশাপাশি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে