রামিসা হত্যা: আসামিদের বক্তব্য প্রচার না করার নির্দেশ আদালতের
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ ৭:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর এ নির্দেশনা দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে বলেন, আইন অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের বিচারকের সামনে ছাড়া বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়, সে জন্য গণমাধ্যমে এমন বক্তব্য প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা জবানবন্দি দেন। পরে সাক্ষ্য দেন ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার। তাদের সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কলিমউল্লাহ জেরা করেন।
শিশু সাক্ষী হওয়ায় ভুক্তভোগীর বড় বোন রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য আদালত ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং কাশিমপুর কারাগার থেকে অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। শুনানির আগে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং পরে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে এজলাসে হাজির করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২৪ মে তা গ্রহণ করা হয়। এরপর মামলাটি বিচার কার্যক্রমের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
১৬০ বার পড়া হয়েছে