সম্পদের হিসাব না দেয়ার মামলায় এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ ৭:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীকে (এস কে সুর চৌধুরী) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।
সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা না দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে এস কে সুর চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ।
এর আগে দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৫ জুলাই আদালত রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানিতে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা দাবি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার তাঁর খালাসের আবেদন করেন।
মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।
দুদক সূত্র জানায়, আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় নাম আসার পর ২০২২ সালে এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। ওই বছরের মার্চে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হয়েছিল।
এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দুদকের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে এস কে সুর চৌধুরী এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) সংশ্লিষ্ট ঋণ অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন এবং আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এস কে সুর চৌধুরী ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎসসহ বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার জন্য দুদক সম্পদ বিবরণীর নোটিশ দেয়।
দুদকের দাবি, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এস কে সুর চৌধুরী নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করলেও নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তা জমা দেননি। পরে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে তাঁর, তাঁর স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং মেয়ে নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে দুদক তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়ার পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যায়।
১২৭ বার পড়া হয়েছে