ট্রাইব্যুনালে বক্তব্যের অনুমতি না পেয়ে লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্য
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চেয়েও পাননি। শুনানি শেষে তাঁকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ হাজির করা হয়।
শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতের কার্যক্রম চলার সময় লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী তাঁর মক্কেলের বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।
এরপর কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘মহামান্য আদালত, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ তিনি কয়েকবার একই কথা বলার পর ট্রাইব্যুনাল তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কে কথা বলছে? তাঁকে কথা বলার জন্য কে অনুমতি দিয়েছে? আজকের মতো এখানেই শেষ।’
এ সময় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘হায়রে হায় হায়। এই যদি হয় আদালত, আমি কোথায় যাই?’
পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁর কাছ থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের এজলাসে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কিছুটা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তিনি ট্রাইব্যুনালে বলতে চেয়েছিলেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’
এদিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাঁর ভাই সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি মামলাটিকে ‘অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বয়স ৮৭ বছর। তিনি দাবি করেন, অপরাধ না করেও যদি তাঁর ভাইয়ের শাস্তি হয়, তাঁরা তা মেনে নেবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ট্রাইব্যুনালে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, ডিবি কার্যালয়ে লতিফ সিদ্দিকী ভালো ব্যবহার পেলেও ট্রাইব্যুনালে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।
১১২ বার পড়া হয়েছে