শেরপুরে ৫ম শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ১২ বছরের শিশু
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ ৪:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শেরপুর পৌর শহরে ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর মা বাদী হয়ে স্থানীয় যুবক কাউছার (২৪) ও সুন্নত আলী সন্তু (৬০) সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় শাহিন মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া ওই শিশুকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও ফুসলিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক গঠনে পরিবর্তন লক্ষ্য করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপরই মূল অভিযুক্ত কাউসার মিয়া অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে শিশুটির গর্ভপাত করায়। জোরপূর্বক গর্ভপাতের কারণে শিশুটির শরীরে ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখায়। তবে শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২২ মে (শুক্রবার) তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুর মায়ের আকুতি: "আমার অবুঝ মেয়েটাকে ফুসলিয়ে সর্বনাশ করা হয়েছে। তারপর আবার জোর করে গর্ভপাত করানোয় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে মেয়েটা এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমি এই পৈশাচিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অপরাধীদের ফাঁসি চাই।"
এই বিষয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার তাহেরাতুল আশরাফী জানান, ১২ বছর বয়সী ওই কন্যা শিশুটি স্ত্রী রোগ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি রয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শেরপুর পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১১৫ বার পড়া হয়েছে