রাজশাহীর সীমান্তে চোরাচালান রুট
নজরদারি জোরদার, মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ শুরু
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাদক, হুন্ডি ও স্বর্ণ পাচারের কার্যক্রম বাড়ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে গোদাগাড়ী উপজেলার কিছু অংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গা সীমান্তপথকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাঝেমধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড় চালান আটক করা সম্ভব হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল চক্রের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা চোরাচালান সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় থানা পুলিশকে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
এরই মধ্যে চিহ্নিত কয়েকজন মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি চিহ্নিত ব্যক্তির সম্পত্তি জব্দ ও বাড়ি সিলগালা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারণে মাদকবিরোধী অভিযান কিছুটা শিথিল হয়ে পড়ে। এ সময় অভিযান পরিচালনাকালে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় চক্রগুলো আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোদাগাড়ী থানার এক কর্মকর্তা (এসআই জুয়েল রানা) জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পুরোনো তালিকায় থাকা অনেকেই এখন আর সক্রিয় নন বা পেশা পরিবর্তন করেছেন, তাই প্রকৃত জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অভিযান ও অপরাধ) এটিএম মাইনুল ইসলাম বলেন, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।
১৬৭ বার পড়া হয়েছে