কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প ২-এর অনিয়ম অভিযোগ:
তদন্ত কমিটি গঠন, গ্রাহকদের প্লট বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ ১২:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প-২-এর উন্নয়ন ও অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটিকে প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত অর্থ সঠিক খাতে ব্যয় হয়েছে কি না, কোথায় কত ব্যয় হয়েছে এবং প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি কী—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
প্রকল্পের একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, প্লটের নির্ধারিত মূল্য পরিশোধের পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা প্লট বুঝে পাননি। তাদের দাবি, গত প্রায় তিন বছরেও প্লট হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
অনেকে আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্পের নির্ধারিত অবকাঠামো যেমন ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক ও আলোকায়ন কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গ্রাহকদের একাংশের দাবি, প্রকল্পের অর্থ নির্ধারিত খাতের বাইরে ব্যয় হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিস্তির মাধ্যমে আদায় করা অর্থের নথিপত্র সংরক্ষিত আছে এবং এসব অর্থ ব্যবহারের হিসাব যথাযথভাবে যাচাই করা হবে।
প্রকল্পের কিছু অংশে উচ্চ আদালতে দায়ের করা একটি রিটের কারণে উন্নয়ন কাজ কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় প্রকল্পের কাজ পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পে মোট ২৪০টি প্লট রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কিছু প্লট নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি প্লট লটারির মাধ্যমে বিতরণের কথা রয়েছে।
প্লট ক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ জানান, তারা ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন। তবে প্লট বুঝে না পাওয়ায় তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ভোগান্তিতে রয়েছেন।
তারা দ্রুত প্লট হস্তান্তর এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের সব নথিপত্র ও অর্থ আদায়ের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনও জানিয়েছে, কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রকৃত গ্রাহকদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে