ঈদযাত্রায় নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা: নির্মাণকাজে বাড়ছে ভোগান্তি
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে আশুলিয়ার নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত অংশে চলমান ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কের একাধিক স্থানে মূল রাস্তার প্রস্থ কমে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে। বর্তমানে সাধারণ দিনেও এই রুটে নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বিকেলে বিভিন্ন শিল্পকারখানা ছুটির পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ১০ মিনিটের পথ, সেখানে এখন যানজটের কারণে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে বলে জানান চালকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের আগে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বাড়লে এই সড়কে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাদের আশঙ্কা, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য নবীনগর–চন্দ্রা অংশটি এবারও ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়াবে। তাই দ্রুত সড়ক মেরামত, খানাখন্দ সংস্কার এবং ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্মাণকাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো ইতোমধ্যে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদযাত্রার সময় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দেড় শতাধিক ট্রাফিক কন্ট্রোলার মোতায়েন করা হবে, যাতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
অন্যদিকে সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্মাণকাজজনিত যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়ক ব্যবহার করে প্রতি ঈদে গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় হয়ে উত্তরবঙ্গের অন্তত ২০টি জেলার হাজারো মানুষ বাড়ি ফিরেন। ফলে এই রুটটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঈদযাত্রা পথ হিসেবে পরিচিত।
১০৭ বার পড়া হয়েছে