সর্বশেষ

সারাদেশ

ঈদে ঢাকামুখী সৈয়দপুরের কসাইরা, কেউ যাচ্ছেন বিমানে

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঈদুল আজহা ঘিরে রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই একটি বিশেষ শ্রমিক প্রবাহ তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও সৈয়দপুর থেকে অভিজ্ঞ কসাইদের একটি বড় দল ঢাকায় যাচ্ছেন। তবে এবারের বৈশিষ্ট্য হলো—কেউ বাস, কেউ ট্রেনের পাশাপাশি বিমানেও রাজধানীতে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সৈয়দপুরের স্থানীয়ভাবে ‘ছোটু নাদিম’ নামে পরিচিত নাদিম কোরাইশি (৫৫) এবার ১০ সদস্যের একটি দল নিয়ে ঈদের আগের দিন ঢাকায় যাবেন। সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম জানান, ইতোমধ্যে তাঁদের বিমানের টিকিটও কাটা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবার-পরম্পরায় এই পেশা চলে আসছে। চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে গরুর মাংস ভাগ করা—সব কাজেই দক্ষতা দরকার। ছোটবেলা থেকেই আমরা এসব শিখে বড় হয়েছি।”

ঈদের সময় ঘনিয়ে এলে সৈয়দপুর শহর ও আশপাশের মাংসপট্টিগুলোতে শুরু হয় ব্যস্ততা। স্থানীয় কসাইদের বড় একটি অংশ রাজধানীমুখী হন। অনুমান করা হচ্ছে, এবারও শতাধিক কসাই ঢাকায় গিয়ে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজে অংশ নেবেন। দল বেঁধে তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নির্ধারিত পরিবারের গরু জবাই ও মাংস কাটার কাজ শেষ করে ঈদের কয়েকদিন পর ফিরে আসবেন।

এই পেশার সঙ্গে জড়িত অনেকেই বিহারি সম্প্রদায়ের, যাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাংস ব্যবসা ও কসাইয়ের কাজ করে আসছে। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে ঢাকায় তাঁদের আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।

নাদিম কোরাইশি বলেন, কসাইয়ের কাজও এক ধরনের শিল্প। তাঁর ভাষায়, “সঠিকভাবে পশু জবাই, চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো এবং মাংস ভাগ করা—সবকিছুতেই নিখুঁত দক্ষতা লাগে।”

তিনি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি প্রতি ঈদেই ঢাকায় গিয়ে কাজ করছেন। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

গত বছর চারজন সহযোগী নিয়ে ঢাকায় ১২টি গরু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজ করেছিলেন তিনি। এতে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হয়। সহযোগীদের পারিশ্রমিক ও যাতায়াত খরচও তিনি বহন করেন বলে জানান।

এবার তাঁর দলে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। কাজকে তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার তাঁদের অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছে।

শুধু নাদিম নন, সৈয়দপুর পৌর মাংস হাটের আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ কসাই—ফজলে রাব্বি, নওশাদ আলী ও খয়রাত হোসেনও পৃথক দল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ বিমানযোগে যাত্রার জন্য আগেই টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

ফজলে রাব্বি বলেন, ঈদের আগে ঢাকামুখী বিমানে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম থাকে। তাই অনেক সময় বিমানভাড়া কিছুটা কম পাওয়া যায়, সেই সুযোগও কাজে লাগান তাঁরা।

অন্যদিকে কসাই মো. মিন্টু জানান, পারিবারিক ঈদের আনন্দের চেয়ে অনেক সময় বাড়তি আয়ের সুযোগই তাঁদের ঢাকায় টেনে নেয়। তাঁর ভাষায়, ঢাকায় কোরবানির মাংস কাটার পারিশ্রমিক গ্রামীণ এলাকার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

তিনি বলেন, “গ্রামে এক লাখ টাকার গরু প্রস্তুত করে যেখানে ৭–৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়, ঢাকায় একই কাজের জন্য ২০–২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। অভিজ্ঞ একজন কসাই ঈদের কয়েক দিনে অন্তত ৮–১০টি গরুর কাজ করতে পারেন।”

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এখন অনেক পরিবারই সৈয়দপুরের এসব অভিজ্ঞ কসাইদের নিয়মিতভাবে ডাকেন। কারও কারও ফোন নম্বরও বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষিত থাকে।

সৈয়দপুরের কারখানা গেট বাজারের কসাই মোস্তাকিম জানান, তাঁর বাবাও আগে ঢাকায় গিয়ে কাজ করতেন। এখন তিনিও একইভাবে নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপার্টমেন্ট বা বাসার পার্কিং এলাকাতেই তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

ঈদের কাজ শেষে আবার কেউ বিমান, কেউ বাস বা ট্রেনে ফিরে আসেন নিজ শহর সৈয়দপুরে। এরপর আবার শুরু হয় অপেক্ষা—পরবর্তী ঈদের মৌসুমে ঢাকামুখী সেই পরিচিত যাত্রার।

১০৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন