সুন্দরবনে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র আত্মসমর্পণ, অস্ত্র-গুলিসহ ৭ ডাকাত কোস্ট গার্ডের হাতে
বৃহস্পতিবার , ২১ মে, ২০২৬ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবনে সক্রিয় কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাত ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আওতায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। এ সময় পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে ২১ বনদস্যুকে। এছাড়া দস্যুদের কবল থেকে ২০ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর অবস্থানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের নন্দবালা খাল এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দুটি পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের মধ্যে রয়েছেন সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন এবং জব্দ করা অস্ত্র-গোলাবারুদ সংক্রান্ত আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একই সঙ্গে সুন্দরবনে সক্রিয় অন্যান্য দস্যুদেরও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে