ওমানে চার ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, একসঙ্গে জানাজায় ভেঙে পড়ল পরিবার
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ওমানে প্রবাসজীবনের সংগ্রাম শেষে দেশে ফেরার কথা ছিল দুই ভাইয়ের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে জীবিত নয়, চার ভাইয়ের মরদেহই ফিরল চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়ার গ্রামের বাড়িতে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
বুধবার সকাল থেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের বন্দারাজা পাড়ায় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পাশাপাশি রাখা চারটি লাশবাহী খাটিয়াকে ঘিরে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত মানুষ। কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি, আবার কেউ নীরবে তাকিয়ে ছিলেন চার ভাইয়ের নিথর দেহের দিকে।
বেলা ১১টার দিকে হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় মানুষের ঢল নামে, মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক পর্যন্ত ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের একমাত্র জীবিত ভাই এনামুল হক, যিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক, নিজেই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
জানাজার আগে উপস্থিত জনতার সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এনামুল হক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি শুধু বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন।”
গত ১২ মে রাতে ওমান এ একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে ওমান কর্তৃপক্ষ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার ভাই প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থে চার বছর আগে প্রায় ৩০ শতক জমি কিনে সেখানে নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। বাড়ির নিচতলার কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। আগামী ১৫ মে দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চারজনই ফিরে এলেন মরদেহ হয়ে।
বন্দারাজা পাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস জানান, একসঙ্গে চারজনের মরদেহ বহনের মতো পর্যাপ্ত খাটিয়া না থাকায় পাশের কয়েকটি মসজিদ থেকে আরও তিনটি খাটিয়া এনে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়।
১৯৯ বার পড়া হয়েছে