সর্বশেষ

জাতীয়

শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে: অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক

রনজক রিজভী
রনজক রিজভী

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর বিভিন্ন বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মানে টপ এচিভার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়েশা মেমোরিয়াল হলে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর সাদেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, অধ্যাপক, একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভাগের প্রধানসহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেন- প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাদের একজন করে অভিভাবক।

এইউবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনের প্রতিটি অর্জন আসলে একেকটি সিঁড়ির ধাপের মতো। মানুষ যখন একটি ধাপ অতিক্রম করে, তখন তার সামনে আরও নতুন ধাপ উন্মোচিত হয়। তিনি বিদেশের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন বহু স্থাপনা ও উন্নয়নের চিত্র দেখা যায় যেখানে মানুষকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, ধাপে ধাপে আরও ওপরে উঠতে হয়। জীবনের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই—একটি সাফল্যই শেষ নয়, বরং সেটিই নতুন যাত্রার সূচনা।

তিনি বলেন, আজকের এই অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেছে। কিন্তু সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ ও আরও উচ্চতর সাফল্যের সিঁড়ি অপেক্ষা করছে। সেই ধাপে পৌঁছাতে হলে প্রয়োজন আরও দৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং অবিচল প্রচেষ্টা। একইসঙ্গে অভিভাবকদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তারা দেশ, এশিয়া, বিশ্ব এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যেও নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে।

তিনি বলেন, একসময় মুসলিম জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বের নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু নিজেদের প্রচেষ্টার ঘাটতি, আত্মতুষ্টি এবং নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। তাই নতুন প্রজন্মকে আবারও সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, তোমরাই জাতিকে সামনে এগিয়ে নেবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র পেশাগত দক্ষতা, ডিগ্রি বা অর্থনৈতিক সাফল্যই প্রকৃত সাফল্য নয়। প্রকৃত সফলতা হলো একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা। তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ এসেছে যারা ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রভাব অর্জন করেছিল, কিন্তু মানবিকতা হারিয়ে ফেলেছিল। হিটলার কিংবা ফেরাউনের মতো ব্যক্তিরা বাহ্যিকভাবে সফল হলেও মানবতার বিচারে তারা চরমভাবে ব্যর্থ। পৃথিবীর মানুষ আজও তাদের ঘৃণার সঙ্গে স্মরণ করে এবং কেয়ামত পর্যন্ত করবে। তাই এমন সাফল্যের কোনো মূল্য নেই, যে সাফল্য মানুষকে মানবিকতা থেকে বিচ্যুত করে।

তিনি বলেন, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের মধ্যে দিয়েছেন বিবেক, জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবীয় গুণাবলি। যদি এসব গুণাবলি মানুষের মধ্যে না থাকে, তাহলে মানুষ ও পশুর মধ্যে পার্থক্য কোথায়? কুরআনের আলোকে তিনি বলেন, যারা সত্য ও নৈতিকতার পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তারা পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি গরুকে যদি ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সে ক্ষেতের ফসল খেয়ে ফেলতে পারে। কারণ তার মধ্যে নৈতিক বিচারবোধ নেই। কিন্তু তার পেট ভরে গেলে সে থেমে যায়। অন্যদিকে মানুষ যখন লোভে অন্ধ হয়ে যায়, তখন তার চাহিদার শেষ থাকে না। তার সম্পদের পাহাড় গড়ে ওঠে, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়, তবুও তার লোভ থামে না। এ কারণেই মানুষ যদি মানবিকতা হারিয়ে ফেলে, তবে সে পশুর চেয়েও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আল্লাহ মানুষকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। সেই মর্যাদা ধরে রাখতে হলে মানবিক মূল্যবোধ, সততা, ন্যায়বোধ ও নৈতিক চরিত্রকে ধারণ করতে হবে। অন্যথায় মানুষ সৃষ্টির নিকৃষ্টতম পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।

তিনি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তারা ইতোমধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এইউবি'র শিক্ষা শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষাও দেয়।

তিনি বলেন, একটি দেশ গঠনের জন্য দুই ধরনের মানুষের প্রয়োজন—দক্ষ মানুষ এবং সভ্য, নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ। বাংলাদেশে দক্ষ মানুষের অভাব নেই, কিন্তু নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষের ঘাটতি রয়েছে। তিনি আফ্রিকার কঙ্গোর উদাহরণ টেনে বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশটি উন্নত হতে পারেনি। অন্যদিকে জাপানের মতো দেশে স্বর্ণ বা হীরার খনি নেই, কিন্তু মানবসম্পদ, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে তারা নিজেদের বিশ্বের অন্যতম উন্নত জাতিতে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, মানুষ যদি নিজের পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে চায়, তাহলে তাকে আগে প্রকৃত মানুষ হতে হবে। কেবল দক্ষতা দিয়ে সমাজকে বদলানো যায় না; প্রয়োজন সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনিও একসময় ভালো ফলাফল ও সাফল্যের জন্য প্রতিযোগিতা করেছেন। এই প্রতিযোগিতা মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু সফল হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিনয়ী থাকা।

পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাসরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ রাসুল (সা.)-কে শিক্ষা দিয়েছেন যে, সফলতার পর মানুষকে আল্লাহর প্রশংসা করতে হবে, তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করতে হবে এবং নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। প্রকৃত সফল মানুষ বিনয়ী হয় এবং আত্মসমালোচনা করতে জানে। আর যারা অমানবিক চরিত্রের হয়, তারা ক্ষমতা পেয়ে অহংকারী ও নির্যাতনকারী হয়ে ওঠে।

তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন সবসময় ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে এবং সমাজ ও দ্বীনের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনেরও আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জীবনের পথপ্রদর্শক। তাদের অবদান ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীই সফলতার এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না।

অভিভাবকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ও কল্যাণকামী। সন্তান ভুল করলেও তারা তার মঙ্গল কামনা করেন এবং সর্বদা দোয়া করেন। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল থাকা।

শেষে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এইউবি থেকে অর্জিত শিক্ষা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে পথ দেখাবে। তারা শুধু নিজেদের জীবনেই সফল হবে না, বরং দেশ, সমাজ ও জাতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান এম. সাদেক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরো বলেন, আজকের এই দিনটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়; এটি হলো নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা, জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি শিক্ষার্থীদের আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার পাশাপাশি পিতা-মাতা, শিক্ষক এবং সমাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার জ্ঞান নয়, বরং তার আচরণ, বিনয় ও মানবিক গুণাবলির মধ্যেই প্রকাশ পায়।

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “তোমরা যখন ছোট ছিলে, তোমাদের মা-বাবা যেমন আদর-স্নেহ ও ত্যাগের মাধ্যমে বড় করেছেন, ভবিষ্যতে তোমরাও যেন তাদের প্রতি একই ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করো।” তিনি দোয়া করেন, যেন এই প্রজন্ম কৃতজ্ঞতাবোধে সমৃদ্ধ হয় এবং সমাজে মানবিকতার আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি। এই দেশকে উন্নত করা, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা, দারিদ্র্য দূর করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব মূলত তাদের কাঁধেই বর্তাবে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষিত হলে চলবে না, তাদেরকে দক্ষ, নৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা এই জাতির ভবিষ্যৎ। তোমাদের মাধ্যমেই এই দেশ এগিয়ে যাবে।” তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এই প্রজন্ম বিশ্বমানের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি একটি মানবিক ও নৈতিক নেতৃত্ব তৈরির কেন্দ্র। এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়া হয় না, বরং তাদের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধুমাত্র ক্লাস নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষকরা এখানে শিক্ষার্থীদের পরামর্শদাতা, পথপ্রদর্শক এবং জীবনের রোল মডেল হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষার্থীরা যেন সহজেই শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য একটি উন্মুক্ত ও সহযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি গর্বের সাথে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যসূচি উন্নয়ন করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে এবং সম্মানজনক অবস্থানে কাজ করছে।

তিনি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, একবার লন্ডনে ভ্রমণের সময় এক সাবেক শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে জানান যে তিনি এখন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে একটি ভালো অবস্থানে কর্মরত আছেন। একই সঙ্গে তিনি গর্বের সাথে জানান যে তিনি তাঁর বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকেই। এ ঘটনা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার অন্যতম শক্তি হলো এর মানসম্মত কারিকুলাম ও অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ। এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান দেওয়া হয় না, বরং বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি কো-কারিকুলাম ও এক্সট্রা কারিকুলাম কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৬টিরও বেশি ক্লাব রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নেতৃত্ব উন্নয়ন, গবেষণা ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। কোনো দুর্যোগ, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড বা শীতকালীন দুর্ভোগ দেখা দিলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। নিজেদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে, পুরোনো কাপড় বিতরণ করে এবং বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। শুধু ভালো চাকরি পাওয়া নয়, বরং একজন ভালো মানুষ হওয়াই প্রকৃত শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা বাহ্যিক চাকচিক্য বা প্রচারণার পরিবর্তে বাস্তব শিক্ষা ও গুণগত মানকেই অগ্রাধিকার দেন।

তিনি অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অনেক অভিভাবক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনা করে তাদের সন্তানদের এখানে পাঠাচ্ছেন—যা তাদের প্রতি বড় আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সফলতার সঙ্গে কাজ করছে—লন্ডন, টোকিও, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে তারা নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

সবশেষে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করবে না, বরং ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। পরিবার, সমাজ, দেশ এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে। তাহলেই শিক্ষা হবে অর্থবহ এবং জীবন হবে সফল।”

তিনি দোয়া করেন, যেন আল্লাহ তাআলা সকল শিক্ষার্থীকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন এবং এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় অব বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার তাওফিক দেন।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন