চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে সালিস নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনে একটি মামলার সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও মারামারিতে আইনজীবী সমিতির ভবন একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আইনজীবীসহ মোট ১২ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করেছে। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, সোনামসজিদ বন্দরে পাথরের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত একটি সিআর মামলা আদালতে দায়ের করা হয়েছিল। মামলার বাদী ছিলেন আইনজীবী সমিতির সদস্য মো. রাসেল আহম্মেদ রনি। আদালতের নির্দেশে গত রোববার বিকেলে আইনজীবী সমিতি ভবনে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিস বৈঠক চলছিল।
বিবাদী পক্ষের ভুক্তভোগী মো. হাসানুল বান্না আকিব জানান, প্রায় ৩৪ লাখ টাকার একটি লেনদেন আগেই মীমাংসা হয়েছিল এবং মাত্র ১ লাখ টাকা বাকি ছিল। তবে স্ট্যাম্পে আরও ৭ লাখ টাকা পাওনা উল্লেখ করার চেষ্টা করা হলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির দাবি, সালিস চলাকালীন কিছু বহিরাগত জোরপূর্বক মামলার বাদী অ্যাডভোকেট রাসেল আহম্মেদ রনির স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, উভয় পক্ষই পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে রড ও লোহার পাইপ এনে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার শিকার ভুক্তভোগী মো. হাসানুল বান্না আকিব আরও অভিযোগ করেন, তিনি ও তাঁর বড় ভাই বাবার কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিতে আইনজীবী সমিতিতে গেলে সেখানে ঝামেলা চলছিল। একপর্যায়ে তাঁর বড় ভাইয়ের কলার চেপে ধরা হয়। বাধা দিতে গেলে তিনকোনা আকৃতির একটি নেমপ্লেট দিয়ে তাঁর বাবার মাথায় আঘাত করা হয়, এতে মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আব্বুকে মারার প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর কয়েকজন মিলে হামলা করে। পরে আমাদের পরিচিত কয়েকজন স্ট্যাম্প নিতে এলে তাদেরও প্রতিপক্ষ ভেবে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। এরপর দুই–তিনজন ভাড়াটে লোক এনে এসএস পাইপ ও রড দিয়ে আমাদের মারধর করা হয়। আমরা বারবার বসার অনুরোধ করলেও তারা শোনেনি। এমনকি পুলিশ আমাদের নিয়ে যাওয়ার সময়ও আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘স্টার নিউজ’-এর প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান তুষারকে আইনজীবীরা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁকে উদ্ধারে গেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনকেও গালিগালাজ করে মারতে তেড়ে আসা হয় বলে জানা গেছে।
তবে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসিব সাংবাদিক অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অন্য দুই সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি পারস্পরিক ছিল এবং পরে তাঁর উপস্থিতিতে সমঝোতা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫ জন থানায় এবং ২ জন হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
রোববার গভীর রাতে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসিব বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০–২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে সদর থানায় লিখিত এজাহার জমা দেন। আসামিদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দুলাল হোসেনও রয়েছেন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, এজাহারে কিছু ভুলত্রুটি থাকায় তা সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফলে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা (এফআইআর) রুজু হয়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, আটক ৭ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে এবং মামলা রুজু হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে