সর্বশেষ

সারাদেশ

ডুয়েট ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি: নতুন ভিসিকে ঘিরে উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বেলা ২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলমান ছিল বলে জানা গেছে। তবে কার্যত পুরো ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, “সোমবার সকাল থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবস্থান ধর্মঘট করছে, তবে পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে পুলিশও অবস্থান করছে।”

গত ১৭ মে রোববার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও বহিরাগতদের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে ১৪ মে সরকার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ডুয়েটসহ মোট ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়। ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে মোহাম্মদ ইকবাল-কে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

নিয়োগের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

এর ধারাবাহিকতায় ১৭ মে সকালে ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচির ব্যানারে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে ‘ডুয়েট থেকে ভিসি চাই’ এবং ‘ডুয়েটের ভিসি ডুয়েট থেকেই চাই’—এমন স্লোগান দেন।

পরবর্তীতে নবনিযুক্ত ভিসিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানার টানান এবং ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, ১৭ মে দুপুরের দিকে ভিসির পক্ষে কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং ঢাকা–শিমুলতলী সড়কে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরপর পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—
১. মোহাম্মদ ইকবাল-এর ডুয়েট উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ বাতিল করা।
২. ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া।
৩. শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার করা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, নতুন ভিসিকে ঘিরে চলমান আন্দোলনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। বিএনপির ছাত্রসংগঠনটির দাবি, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশে’ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, নবনিযুক্ত ভিসি মোহাম্মদ ইকবাল এখনও ক্যাম্পাসে নিজের অফিসে যাননি। তিনি গাজীপুরেই অবস্থান করছেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, তিনি অনলাইনে যোগাযোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন