কেন্দুয়ায় শিশুকে ছুড়ে ফেলে মাকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক মাস সাত দিন বয়সী এক নবজাতক শিশুকে কোল থেকে ছুড়ে ফেলে তার মাকে ধর্ষণচেষ্টার এক বর্বরোচিত ও রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।
গত রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টার মধ্যে উপজেলার তেতুলিয়া কৈজানী নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী আব্দুর রউফ মিয়া নামের এক মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রউফ জেলার মদন উপজেলার বাসিন্দা এবং তেতুলিয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকার একজন মুদি দোকানি।
আজ সোমবার (১৮ can/মে) সকালে কেন্দুয়া ও মদন থানা পুলিশের একটি যৌথ দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ।
পারিবারিক বিরোধ ও ঘটনার সূত্রপাত: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রগা ইউনিয়নের নূরনগর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের কোলজুড়ে আসে এক মাস সাত দিন বয়সী এক নবজাতক শিশু। তবে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১৫ মে স্বামী রিপন মিয়া ওই নারীকে একতরফাভাবে ডিভোর্স (তালাক) দেন।
তালাকের পর গত ১৭ মে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ওই নারী তাঁর কোলে থাকা নবজাতক শিশুকে নিয়ে নায়েকপুর থেকে বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে কৈজানী নদী পার হয়ে তিনি কেন্দুয়ার তেতুলিয়া ঘাটে পৌঁছান এবং সেখানে ঘাট সংলগ্ন আব্দুর রউফ মিয়ার মুদি দোকানের সামনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
নির্জন স্থানে ধর্ষণচেষ্টা ও শিশুকে নিক্ষেপ: এ সময় মুদি দোকানি আব্দুর রউফ মিয়া ওই নারীকে রাতে একা ভ্রমণ করতে নিষেধ করেন এবং নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁর বাড়িতে থেকে পরদিন সকালে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন। সরল বিশ্বাসে ওই নারী তাঁর শিশু ও ব্যাগ নিয়ে রউফের সঙ্গে রওনা হন। কিন্তু পথে গিয়ালী খালের পাশের এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আব্দুর রউফ তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন এবং জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী নারী এতে রাজি না হয়ে চিৎকার ও বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে লম্পট আব্দুর রউফ মায়ের কোল থেকে অবুজ শিশুটিকে নির্মমভাবে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেন। এরপর দেশীয় অস্ত্র 'রামদা' উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
কৌশলে আত্মরক্ষা ও শিশু উদ্ধার: ধর্ষণচেষ্টাকালে কাছাকাছি এলাকায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে আসা এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে ভুক্তভোগী নারী কৌশলে লম্পটের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে তিনি চিৎকার করে স্থানীয় লোকজনকে বিস্তারিত জানান। ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযানে নামেন। ঘটনার প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর পার্শ্ববর্তী একটি পাটক্ষেত থেকে ক্রন্দনরত ও অক্ষত অবস্থায় নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে বাজারে নিয়ে আসা হয়।
আইনানুগ ব্যবস্থা: খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ পুলিশ ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি জানান, ভুক্তভোগী মা ও শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আব্দুর রউফকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে নবজাতক শিশু ও ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
১২৬ বার পড়া হয়েছে