বীজের প্রতারণায় পথে কৃষক, ৬০ একর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার ফলন শূন্য
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ৬:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন ব্যাংক ঋণ, দোকান থেকে সার-কীটনাশক বাকিতে এবং মানুষের জমি চুক্তিতে নিয়ে ৬০ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছিলেন।
সঠিক পরিচর্যায় পুরো ক্ষেতজুড়ে গাছ ও ফুলে ভরে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ফল আসেনি। এতে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন জানান, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এবং সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের নলেহা গ্রামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতি একর ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে ৬০ বিঘা জমি নিয়ে প্রথমে আলুর চাষ করেন। আলুতে লোকসান হওয়ার পর তিনি ওই জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি জানান, বোদা বাজারের সার-বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী আরিফুল রহমান রাসেলের পরামর্শে আলমগীর সীড কোম্পানির ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ সংগ্রহ করেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বীজের মান অত্যন্ত ভালো এবং প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাবে।
কোম্পানির নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ সব ধরনের পরিচর্যা করা হলেও তিন মাস পার হয়ে গেলেও গাছে কোনো ফল আসেনি। অথচ গাছের বৃদ্ধি ও ফুলের অবস্থা ছিল স্বাভাবিক। তিনি বলেন, সম্ভাব্য ফলন পেলে বর্তমান বাজারমূল্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করা সম্ভব হতো।
সর্দারপাড়া গ্রামের জমির মালিক কাব্য ভূষণ বর্মন জানান, ছয় ভাই মিলে সাজ্জাদ হোসেনকে ৬০ বিঘা জমি চুক্তিতে দিয়েছিলেন। আলু চাষে লোকসানের পর তিনি মিষ্টি কুমড়া আবাদ করেন। কিন্তু গাছে ফল না আসায় জমির মালিকরাও তাদের পাওনা টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, পাশের জমিতে অন্য কৃষকদের মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। তাই এটি বীজের ত্রুটি বলেই তারা মনে করছেন।
সার-বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল বলেন, আলমগীর সীডস কোম্পানি তাকে বীজের ভালো ফলনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। গত ২৬ জানুয়ারি তিনি নগদ টাকায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ কিনে সাজ্জাদ হোসেনকে দেন। কোম্পানির পরামর্শ অনুযায়ী সব কিছু করা হলেও একটি কুমড়াও উৎপাদন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কৃষকের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমি এখন পথে বসেছি। ঋণ, ধারদেনা, জমির মালিকের পাওনা এবং শ্রমিকের টাকা বাকি রেখে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করেছি। আলমগীর সীড কোম্পানি আমাকে রাস্তায় নামিয়েছে। আমি ক্ষতিপূরণ চাই। না দিলে আদালতের আশ্রয় নেব।”
জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শামীম বলেন, কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বীজ সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ দিয়েছেন, যার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তর পেয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩২ বার পড়া হয়েছে