পরিবেশ সুরক্ষার শর্তে সীমিতভাবে চালু হতে পারে সিলেটের পাথর কোয়ারি
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ৪:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলো আবারও সীমিত পরিসরে চালুর বিষয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। পরিবেশগত বিধিনিষেধ মেনে এবং ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষিত অঞ্চল বাদ দিয়ে কিছু কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের সুযোগ রাখার নীতিগত আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ ও ভূতাত্ত্বিক দিকগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভূগর্ভের কোন স্তর পর্যন্ত পাথর উত্তোলন নিরাপদ—তা বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কায় সিলেট বিভাগের সব পাথর কোয়ারিতে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায়ও এসব এলাকায় পাথর উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।
তবে স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি কোয়ারিগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে পরিবেশ আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে সীমিতভাবে কিছু এলাকা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবেশ ও আইনগত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে এসব কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন থেমে নেই। সরকারিভাবে চালুর সুযোগ তৈরি হলে তা আবারও অনিয়ম ও লুটপাটের পথ খুলে দিতে পারে।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ সংগঠনের নেতা আব্দুল করিম চৌধুরী কিম বলেন, পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কঠোর নজরদারির মধ্যেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় অতীতের মতো অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম ফিরে আসার ঝুঁকি থাকবে।
এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, ভূগর্ভের নির্দিষ্ট সীমার নিচে পাথর উত্তোলন করলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। তাই বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে উত্তোলনের নিরাপদ সীমা নির্ধারণ এবং পুরো কার্যক্রমে কঠোর সরকারি তদারকি জরুরি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় মোট অন্তত ১৩টি পাথর কোয়ারি রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের ৮টি এবং সুনামগঞ্জের একাধিক কোয়ারি বর্তমানে বন্ধ অবস্থায় আছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে সতর্ক সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে