সর্বশেষ

সারাদেশ

ভারতীয় গরু প্রবেশের শঙ্কা, ময়মনসিংহে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 

সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ৬:৫০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু চোরাচালানের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন জেলার দেশি গরুর খামারিরা।

প্রতি বছরের মতো এবারও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে একটি চক্র ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

খামারিদের দাবি, সারা বছর গরু লালন-পালনের পর কোরবানি ঈদেই তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখার আশা করেন। কিন্তু ভারতীয় গরু বাজারে ঢুকে পড়লে দেশি গরুর দাম অর্ধেকে নেমে আসে। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করতে হয় তাদের।

ইতোমধ্যে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় কোরবানির পশুর হাট জমতে শুরু করেছে। হাটগুলোতে উঠছে বিভিন্ন জাতের গরু এবং পর্যাপ্ত পশুর উপস্থিতিও দেখা গেছে। ভালো দামের আশায় খামারিরা এক হাট থেকে আরেক হাটে গরু নিয়ে ছুটছেন। দেশি গরুর চাহিদা থাকায় ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে। তবে ভারতীয় গরুর সম্ভাব্য আগমনের কারণে খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

চুরখাই এলাকার খামারি আব্দুল মতিন বলেন, “দিন দিন ঘাস, ভূষিসহ সব ধরনের গোখাদ্যের দাম বাড়ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে রোগবালাই ও ওষুধের খরচ। গরু পালন করতে এখন অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে। অন্য সময় এক-দুটি গরু বিক্রি হলেও আমরা মূলত কোরবানি ঈদের জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু ঈদ এলেই সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু চলে আসে। তখন হাটে গিয়ে দেখি দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুও বিক্রি হচ্ছে।”

আরেক খামারি ইয়ার মাহমুদ প্রিন্স বলেন, “এখন গরু উৎপাদনে আগের মতো লাভ নেই। সব কিছুর দাম বেড়েছে, কর্মচারীদের বেতনও বাড়াতে হচ্ছে। একটি গরু বিক্রি করে খুব সামান্য লাভ থাকে। ভারতীয় গরু বাজারে এলে দেশি গরুর চাহিদা কমে যায়। তখন লোকসান হলেও কম দামে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হই। দেশি খামারিদের বাঁচাতে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।”

মুক্তাগাছার ক্রেতা বাবুল আহমেদ বলেন, “হাটে প্রচুর গরু রয়েছে। তবে কোনটি দেশি আর কোনটি ভারতীয় গরু, তা বোঝা কঠিন। অনেক বিক্রেতা ভারতীয় গরুকে দেশি বলে বিক্রি করছেন। সীমান্তে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত।”

হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, সারা বছরই গরু চোরাকারবারিরা সক্রিয় থাকে। তবে কোরবানি ঈদ এলেই এসব চক্র আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু দেশের ভেতরে নিয়ে আসে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক চোরাকারবারি ভারতীয় পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতি সপ্তাহে মোটা অঙ্কের টাকা থানায় দিয়ে ভারতীয় গরু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, “সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি তৎপর রয়েছে। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ টিম গঠন করে ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে ভারতীয় পণ্য ও চোরাকারবারিদের আটক করা হচ্ছে। বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ এখন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, কোরবানি ঈদে দেশের পশুর চামড়া যাতে ভারতে পাচার না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “গরু চোরাচালান প্রতিরোধে জেলার প্রতিটি থানায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জাতীয় হেল্পলাইনে তথ্য দিলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের আটক এবং গরু উদ্ধার করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, পশুর হাটগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও মোতায়েন থাকবে। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ মেশিনও বসানো হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এবার ময়মনসিংহ জেলায় কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার, বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার পশু।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন