সর্বশেষ

সারাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাহিদার তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত

আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬ ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পশুপালনে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। আমের জন্য বিখ্যাত এই জেলা এখন বরেন্দ্র অঞ্চলের পশুপালনেও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পশু লালন-পালন করা হয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে খামারিরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকলেও, তারা শেষ পর্যন্ত ভালো দামে পশু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এরই মধ্যে অনেক খামারি তাদের অর্ধেকেরও বেশি পশু বিক্রি করে ফেলেছেন।

জেলায় এবার ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষও বাড়ির আঙিনায় ছোট শেড বা টিনের ছাউনিতে দুই-চারটি করে গরু ও ছাগল মোটাতাজা করেছেন। ঈদের আর অল্প কিছুদিন বাকি থাকায় খামারি ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। সময়মতো খাবার দেওয়া, গোসল করানো এবং সার্বিক পরিচর্যায় কোনো ঘাটতি না রাখতে তারা দিন-রাত কাজ করছেন।

খামারিদের মতে, শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় সামান্য অবহেলা হলেও কোরবানির পশুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে খামার শ্রমিকরাও নাওয়া-খাওয়া ভুলে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তাদের আশা, মালিকপক্ষ লাভবান হলে কর্মসংস্থান ও বোনাস নিশ্চিত হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের অন্যতম মাল্টিপল কৃষি খামার ‘হাসানুল এগ্রো’-তেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই খামারে এবার কোরবানির জন্য শত শত হৃষ্টপুষ্ট গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। খামারের মালিক হাসানুল বান্না জানান, ইতোমধ্যেই তাদের খামারের প্রায় ৭০ শতাংশ গরু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে। এখানে ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা দামের গরুও রয়েছে।

তবে অনেক বড় খামারি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দূরপাল্লার ব্যবসায়ীরা এবার সরাসরি গ্রামাঞ্চলে এসে গরু সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে করে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং দামও কিছুটা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, খামারিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভুট্টা, গম, ভুসি ও খৈলসহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম অত্যধিক বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র গরমে পশুর সঠিক বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য নিয়মিত পানি সরবরাহ ও ফ্যানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

খামারিদের সবচেয়ে বড় শঙ্কা সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে। তাদের একাংশের মতে, সারা বছর কষ্ট করে কোরবানির মৌসুমে লাভের আশায় তারা কাজ করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে এবং সেগুলো বাজারে ছাড়পত্র পেলে দেশীয় প্রান্তিক খামারিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরুর অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে বন্ধ থাকলে এবার ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০০টি। এর বিপরীতে জেলার স্থানীয় চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও প্রায় ৫৯ হাজার ২৯৮টি (প্রায় ৬০ হাজার) পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে সরবরাহ করা হবে।

নিরাপদ মাংস উৎপাদন বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. শারমিন আক্তার (বিসিএস লাইভস্টক) জানান, কোনো ধরনের কেমিক্যাল, স্টেরয়েড ড্রাগ বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে পশু মোটাতাজা করার জন্য খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ মাংসের বাজার নিশ্চিত করতে তাদের টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করছে।

প্রান্তিক খামারি ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশুর প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলে গো-খাদ্যের ঊর্ধ্বমূল্যসহ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরা তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং আগের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারবেন।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন