শরীয়তপুরে হাসপাতালে হামলায় গ্রেফতার ৬, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬ ৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. আকরাম এলাহী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫০/৫৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন (৩০), জসিম কাজী (৪০), আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২) এবং জায়েদা বেগম (৬০)। বাকি একজনের নাম এখনো জানা যায়নি।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে আজ রবিবার সকালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং কালোব্যাজ ধারণ করেন।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টায় সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তিনি মারা যান। এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
অভিযোগের পর তারা চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর চড়াও হন এবং জরুরি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে তার মাথায় পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এছাড়া কিল–ঘুষি মেরে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তিনি দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ডা. নাসির ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত বিচার করে কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে