বান্দরবানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৫০টির বেশি দোকান ও বসতঘর
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬ ৮:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫০টি দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বাজারে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকানপাট ও বসতঘরসহ অর্ধশতাধিক স্থাপনা পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে বাজারের অধিকাংশ দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এখনো আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘমারা বাজারের বেশিরভাগ দোকান ও স্থাপনা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দোকান ও বসতঘরের ভেতরে থাকা মালামালও পুড়ে গেছে। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বাবলু মহুরী, মিদু রাখাইনসহ কয়েকজন জানান, গভীর রাতে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা কেউ বলতে পারছেন না। তারা বলেন, দোকানপাট ও বসতঘরসহ প্রায় ৭০টি স্থাপনা পুড়ে গেছে। আগুনের কারণে কেউ কোনো মালামাল বের করার সুযোগ পাননি। সব হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগেও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়েছিল বাঘমারা বাজার। এবার নিয়ে চারবার বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলো বাজারটি। আগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও এমন বিপর্যয়ে তারা হতাশ ও অসহায় হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, খবর পাওয়ার পর চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্গম এলাকার কারণে আগুন নেভাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে