সুন্দরবনের করিম শরীফ বাহিনীর উপপ্রধান রাজন অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬ ৭:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে তাদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। এ বিষয়ে পশ্চিম জোন সদর দপ্তর মোংলায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন (এক্স), বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস তৌফিক।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠবারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান চালিয়ে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের ঢাংমারী খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি আভিযানিক দল সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে তাদের আটক করে। এ সময় একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
এছাড়া আটক ডাকাতদের কাছ থেকে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা রাজন শরীফ (২০)। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, রাজন শরীফ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৯৪ বার পড়া হয়েছে