সর্বশেষ

সারাদেশ

মাগুরায় ৫ আগস্টের ঘটনায় ১৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা: ‘মামলা বাণিজ্য’ ও হয়রানির অভিযোগে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতারাও

রূপক আইচ, মাগুরা
রূপক আইচ, মাগুরা

বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ ৫:০১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মাগুরায় গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি আরও ১৬০ জনকে আসামি করে নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলার আসামিদের তালিকায় অসংগতি, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি খোদ জেলা বিএনপির নেতারাই এই মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘মামলা বাণিজ্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গত ৭ মে মাগুরা জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিজেকে ছাত্রদল নেতা দাবি করা সজিব হোসেন। এই মামলায় দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ম্যাক্স গ্রুপের (Max Group) মালিক পরিবারের সদস্যদের নাম জড়ানো হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মাগুরা সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মকলেছুর রহমানের ছেলে প্রকৌশলী গোলাম মো. আলমগীর ও তার নাতি জুলকার নাইন।

এছাড়া ঘটনার সময় ঢাকায় কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোরশেদ আনোয়ারকেও আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে মোরশেদ আনোয়ার বলেন, “৫ আগস্ট আমি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সরকারি ডিউটিতে ছিলাম। সারাদেশে যান চলাচল বন্ধ থাকা অবস্থায় আমি কীভাবে মাগুরায় গিয়ে হামলায় অংশ নিলাম? গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক বিরোধের জেরে জনৈক আইনজীবী পরিকল্পিতভাবে আমার নাম জড়িয়েছেন।”


স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রভাবশালী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মামলায় জড়িয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অপকৌশল হিসেবে এই মামলাটি ব্যবহার করা হতে পারে। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই একটি চক্র এমন ‘অযৌক্তিক’ মামলা করছে বলে অনেকে মনে করছেন।

মামলাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাগুরা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, এই মামলার বিষয়ে জেলা বিএনপির কোনো নেতা অবগত নন। একটি কুচক্রী মহল দলের নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে চাইছে। কেউ যদি এই মামলার দোহাই দিয়ে অনৈতিক সুবিধা বা টাকা দাবি করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা বিএনপি নেতৃত্বকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

একই সুর শোনা গেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান শামীমের কণ্ঠেও। তিনি এই মামলাকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

এত বিতর্কের পরও মামলার বাদী মো. সজিব হোসেন তার অবস্থানে অনড়। নিজেকে গুলিবিদ্ধ ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও মাগুরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি দাবি করে তিনি বলেন, “মামলার পক্ষে আমার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।”

এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আদালতের নির্দেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। কাগজ হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই দাবি— প্রকৃত দোষীদের বিচার হোক, কিন্তু ৫ আগস্টের চেতনাকে পুঁজি করে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন