শেরপুর কাপাঁবে ৩৩ মণ ওজনের ফ্রিজিয়ান ‘বাংলার ডন’
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রতি বছর কোরবানির ঈদ ঘিরে বড় আকারের গরু নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকে চোখে পড়ার মতো। এ বছর শেরপুর জেলার মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ‘বাংলার ডন’ নামের ৩৩ মণ ওজনের একটি বিশাল ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়।
খামারে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন গরুটিকে এক নজর দেখার জন্য এবং ছবি তোলার জন্য। কোরবানির হাটে ওঠার আগেই গরুটি পুরো শেরপুরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় অবস্থিত আলিফ লাম এগ্রোতে গত তিন বছর ধরে যত্নে-আদরে লালন-পালন করা হচ্ছে ‘বাংলার ডন’-কে। খামার সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজাহান আলীর মালিকানাধীন এই ফ্রিজিয়ান ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৩ মণ। গরুটির দৈর্ঘ্য ১১ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। বিশাল আকৃতির কারণে খামারে আগত দর্শনার্থীরা প্রথম দেখাতেই বিস্মিত হয়ে পড়ছেন।
খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘বাংলার ডন’-এর পরিচর্যায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৮০ কেজি ঘাস ও খড় খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি প্রায় ২০ কেজি খৈল, ভুষি ও ভুট্টার গুঁড়া দেওয়া হয়। শুধু খাদ্য নয়, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যের দিকেও বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। দিনে তিন থেকে চারবার গরুটিকে গোসল করানো হয়। এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণও করা হচ্ছে।
আলিফ লাম এগ্রোর ম্যানেজার রফিক মিয়া বলেন, তাদের খামারে এবারের কোরবানির জন্য অনেক গরু প্রস্তুত রয়েছে। তবে ‘বাংলার ডন’-এর মতো আর একটি গরুও নেই। তিনি বলেন, এই গরুটি এবার পুরো শেরপুরে আলোড়ন সৃষ্টি করবে। কেজি হিসেবে বিক্রি করলে এর সম্ভাব্য দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে। খামারে আরও ২৫ থেকে ২৮ মণের ৮ থেকে ১০টি বড় গরু রয়েছে। এছাড়া মোট শতাধিক গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ‘বাংলার ডন’-কে ঘিরেই।
খামারের শ্রমিক হাবিব জানান, এত বড় গরু পালন করা সহজ নয়। নিয়মিত পরিচর্যা, খাবার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আলাদা শ্রম দিতে হয়। তারা গরুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করেই যত্ন নেন। মালিক তাদের ভালোভাবে দেখভাল করেন, তাই গরুগুলোর প্রতিও তাদের আন্তরিকতা রয়েছে। অন্য সব গরুর তুলনায় ‘বাংলার ডন’-এর প্রতি তাদের আলাদা মায়া তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে আশপাশের উপজেলা ছাড়াও দূরবর্তী এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। ঝিনাইগাতী থেকে আসা রুবেল বলেন, এর আগে এত বড় গরু তিনি কখনও কাছ থেকে দেখেননি। শুধু এক নজর দেখার জন্যই তিনি এসেছেন এবং সত্যিই এটি অবাক করার মতো একটি গরু। এমন গরু পালনের ইচ্ছাও তার মধ্যে তৈরি হয়েছে।
শেরপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজুয়ানুল হক ভূইয়া বলেন, গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের ফলে বর্তমানে দেশে ফ্রিজিয়ান ও শাহিওয়াল জাতের বড় গরু উৎপাদন হচ্ছে। শেরপুরের খামারিরাও এখন বাণিজ্যিকভাবে বড় গরু প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছেন। উন্নত জাতের গবাদিপশু পালনে খামারিদের আগ্রহ বাড়ায় জেলায় বড় আকারের গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসন্ন কোরবানির হাটে শেরপুরের এসব বড় গরু ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে গরুগুলো সুস্থ ও নিরাপদভাবে বাজারজাত করা যায়।
১২২ বার পড়া হয়েছে