কুমারখালীতে সরকারি হাসপাতালের কোয়ার্টারে মুরগির খামার ! অপসারণের নির্দেশ
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ ২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর পরিত্যক্ত আবাসিক কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন ধরে মুরগির খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
রোববার (১০ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল থেকে প্রায় ৩০ মিটার দূরে অবস্থিত দুইটি জরাজীর্ণ দোতলা কোয়ার্টারের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার তিনটি কক্ষে সপরিবারে বসবাস করছেন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পলি খাতুন। একই ভবনের ছাদে টিন, বাঁশ ও প্লাস্টিকের জাল দিয়ে তৈরি করা শেডে বাণিজ্যিকভাবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি পালন করা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৮০টি মুরগি রয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে গণপূর্ত বিভাগ কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে কোয়ার্টার দুটি নির্মাণ করে। তবে দীর্ঘ ২৩ বছরেও সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলো এখন প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, চুরি হয়ে গেছে দরজা-জানালার বিভিন্ন অংশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করলে বেতন থেকে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। অথচ বাইরে তুলনামূলক কম ভাড়ায় ভালো বাসা পাওয়া যায়। এ কারণে কেউ কোয়ার্টারে থাকতে আগ্রহী নয়।
হাসপাতালের বারান্দায় ভর্তি থাকা এক বৃদ্ধ রোগী অভিযোগ করে বলেন, বাতাস এলেই মুরগির খামারের দুর্গন্ধ নাকে আসে। এতে হাসপাতালে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালজুড়ে নোংরা পরিবেশ ও দুর্গন্ধে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি খামারটি সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পলি খাতুন বলেন, আগের এক কর্মকর্তার অনুমতিতে তিনি দেড় বছর ধরে কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। নিজের খরচে ভবনের কিছু সংস্কারও করেছেন। পাশাপাশি ছাদে মুরগি পালন করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. শারমিন আক্তার বলেন, একসময় কোয়ার্টারগুলো মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছিল। ভবন দেখাশোনার জন্য পলি খাতুনকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। তবে মুরগির খামার করার অনুমতি ছিল না। বিষয়টি জানার পর তাঁকে দ্রুত মুরগি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে